অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল (Accounts Receivable) সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

Halder Teaching
0

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল (Accounts Receivable) কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

যখন কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছে বাকিতে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তখন সেই গ্রাহকের কাছ থেকে পাওনা অর্থকে অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল (Accounts Receivable) বলা হয়। এটি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ চলতি সম্পদ (Current Asset), কারণ ভবিষ্যতে এই অর্থ কোম্পানির কাছে আসার কথা।

এই ধারণাটি বুঝতে পারলে ব্যবসার নগদ প্রবাহ এবং পাওনা অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল (Accounts Receivable) ব্যাখ্যা করা শিক্ষামূলক চিত্র, যেখানে ইনভয়েস, গ্রাহকের বকেয়া অর্থ এবং ব্যবসায়িক আর্থিক নথি দেখানো হয়েছে।


অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল কী?

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল হলো সেই অর্থ, যা কোনো গ্রাহক বাকিতে পণ্য বা সেবা কেনার কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে দেনা হিসেবে থাকে।

এক্ষেত্রে বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ক্রেতার কাছ থেকে কোনো অ্যাকসেপ্ট্যান্স বা প্রমিসরি নোট (লিখিত অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি) গ্রহণ করে না। বরং কোম্পানি কেবল পাওনা অর্থকে তাদের হিসাবের বইয়ে চলতি সম্পদ (Current Asset) হিসেবে নথিভুক্ত করে।

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল কেন গুরুত্বপূর্ণ?

অনেক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের একটি বড় অংশই অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল দিয়ে গঠিত হয়। সাধারণভাবে বিক্রয় যত বাড়ে, অ্যাকাউন্টস রিসিভেবলের পরিমাণও তত বৃদ্ধি পায়।

সহজভাবে ভাবুন, আপনি যদি কোনো দোকান থেকে বাকিতে জিনিস কিনে পরে টাকা দেওয়ার কথা বলেন, তাহলে সেই টাকাটাই দোকানের কাছে অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল হিসেবে গণ্য হবে।

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল ব্যবহার করে অর্থায়ন

কোম্পানি প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। এটি সাধারণত দুইভাবে করা হয়—

  • ফাইন্যান্স কোম্পানির কাছে অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল বিক্রি করা।
  • বাণিজ্যিক ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য এটিকে জামানত (Collateral) হিসেবে ব্যবহার করা।
এভাবে প্রতিষ্ঠান দ্রুত অর্থের ব্যবস্থা করতে পারে, যদিও গ্রাহকের কাছ থেকে পাওনা অর্থ তখনও আদায় হয়নি।

এই অর্থায়নের একটি বৈশিষ্ট্য

এই পদ্ধতি ফ্যাক্টরিং (Factoring) থেকে আলাদা।
এর কারণ হলো—

  • গ্রাহককে জানানো হয় না যে তার পাওনা হিসাব বিক্রি করা হয়েছে বা জামানত রাখা হয়েছে।
  • কোম্পানিই সম্ভাব্য ঋণ-ক্ষতির দায়িত্ব বহন করে।

কোন প্রতিষ্ঠান বেশি ব্যবহার করে?

এই ধরনের অর্থায়ন তুলনামূলকভাবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি ব্যবহার করে।
এর প্রধান কারণগুলো হলো—

  • তারা অনেক সময় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ পায় না।
  • তাদের কাছে জামানত হিসেবে দেওয়ার মতো অন্য উচ্চ তারল্যসম্পন্ন (Highly Liquid) সম্পদ থাকে না।

সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

সুবিধা

  • বিক্রয়ের পরিমাণের সঙ্গে অর্থায়নের সুযোগও পরিবর্তিত হতে পারে।
  • এটি তুলনামূলকভাবে নমনীয় (Flexible) ঋণের উৎস।

সীমাবদ্ধতা

  • অ্যাকাউন্টস রিসিভেবলভিত্তিক অর্থায়ন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল (Expensive) ঋণ গ্রহণের একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল ও অ্যাকাউন্টস পেয়েবলের পার্থক্য

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল হলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকের কাছ থেকে পাওনা অর্থ। অন্যদিকে, অ্যাকাউন্টস পেয়েবল হলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অন্যদের কাছে পরিশোধযোগ্য অর্থ।

সারসংক্ষেপ

অ্যাকাউন্টস রিসিভেবল হলো ক্রেডিটে পণ্য বা সেবা বিক্রির ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে পাওনা অর্থ। এটি কোম্পানির চলতি সম্পদের অংশ এবং অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। প্রয়োজনে এই পাওনা অর্থ বিক্রি বা জামানত হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা যায়, যদিও এ ধরনের অর্থায়ন তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল এবং কোম্পানিকেই সম্ভাব্য ঋণ-ক্ষতির দায়িত্ব বহন করতে হয়।

Post a Comment

0 Comments
Post a Comment (0)

Made with Love by

Visit Bangla Shiksha Info today to get Madhyamik, Higher Secondary, and college notes, educational …